১৩-জুন-২০২৪
১৩-জুন-২০২৪
Logo
অর্থনীতি

নিয়ন্ত্রণে আসছে নিত্যপণ্যের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিতঃ ২০২২-০৯-০২ ১৭:১০:২৭
...

সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমছে না, বরং দিন দিন আরো বাড়ছে।  বিভিন্ন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে।  ফলে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সবকিছুর দাম।  সিন্ডিকেট দৌরাত্ম্য ভেঙ্গে এবার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশকিছু উদ্যোগ নিচ্ছে সরকারের কয়েকটি সংস্থা।  বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের টিমসহ নিয়মিত বাজার অভিযান পরিচালনা করবে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।  পরিকল্পিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে বাজারে অস্থিরতার তাৎক্ষণিক সমাধান হয়তো মিলবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। 

এদিকে ভোক্তার অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কাজ করছে।  ব্যবসায়ী সংগঠন, ব্যবসায়ী এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সততার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।  কাজ করছে সকল সিটি করপোরেশনের বিশেষ টিম। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে সরকার।  তাই রাজস্ব আয়কে কম গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারদরের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কিছুসংখ্যক আমদানি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক ডিউটি প্রত্যাহার করা হচ্ছে।  শুল্ক ছাড় দিয়ে চাল আমদানির পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। 
সূত্র জানিয়েছে, সরকারের এত উদ্যোগের পরও কিছু পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে।  অভিযোগ রয়েছে, এর সঙ্গে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীরা জড়িত।  অনৈতিক মুনাফার আশায় তারা বাজারকে অস্থির এবং সরকারকে বিব্রত করছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।  এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত বাজার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। 

জানা গেছে, বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট, নৈরাজ্য ও একচেটিয়া অধিকার মেনে নেবে না সরকার।  নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে কেউ কোনো পণ্য বিক্রি করলে এখন থেকে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  শুধু জরিমানা আদায় নয়, এজন্য সরাসরি মামলা দায়ের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভোজ্যতেলের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করে দিচ্ছে সরকার।  এখন থেকে আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিত করতে পণ্যের মূল্য প্রতিমাসেই নির্ধারণ করে দেবে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন।  অবিলম্বে এই কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।  এসব পণ্য হলো- চাল, গম (আটা, ময়দা), ভোজ্যতেল (সয়াবিন, পাম), পরিশোধিত চিনি, মসুর ডাল, পেঁয়াজ, রড এবং সিমেন্ট।  এছাড়া কোনো পণ্যের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি হলে সেগুলোরও মূল্য নির্ধারণ করে দেবে সরকার। 

নিত্যপণ্যের সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ করে পণ্যের সরবরাহ, মজুত ও আমদানি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে গত ৩০ আগস্ট জরুরি সভা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।  বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এর আয়োজন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তিনি জানান, বাজারের অস্থিরতা কমাতে জ্বালানি তেলের দাম কমানো, বিভিন্ন নিত্যপণ্যের ওপর থেকে বিভিন্ন প্রকার শুল্ক, ডিউটি প্রত্যাহার, বেসরকারি উদ্যোগে চাল আমদানির সুফল জনগণকে দিতে চায় সরকার। 

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য, সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভায় আরো জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন ও পাম তেলের মূল্য কিছুটা কমলেও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।  সরকার এ বিষয়ে সতর্ক আছে, তাই কিছুদিন পরপর এর মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে।  সভায় উপস্থিত ছিলেন এনএসআই, ডিজিএফআইসহ দেশের সব গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা। 

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান- বৈঠকে চাল, গম (আটা, ময়দা) ভোজ্যতেল (সয়াবিন, পাম), পরিশোধিত চিনি, মশুর ডাল, পেঁয়াজ, রড এবং সিমেন্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে।  বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের মূল্য সরকার নির্ধারণ করে দেবে।  মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি দেখভাল করবে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন।  বাজারে পণ্যের নির্ধারিত মূল্যের বিষয়টি তদারকি করবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। 

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে সরকার ইতোমধ্যে চাল আমদানির ওপর থেকে ট্যাক্স তুলে নিয়েছে।  জ্বালানি তেলের মূল্য কমানো হয়েছে।  এতে প্রতি কেজিতে চালের দাম ৮-১০ টাকা কমার কথা রয়েছে।  প্রয়োজনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।  তবে ভোক্তাদের স্বার্থরক্ষা এবং দেশীয় শিল্প সুরক্ষার নামে যাতে কেউ অনৈতিক সুযোগ নিতে না পারে সেদিকে নজর রাখা হবে।  এক্ষেত্রে অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি ও পেঁয়াজের সঙ্গে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডে মিলবে ১০ কেজি চাল।  প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি শুরু হবে।  সারা দেশের ২ হাজার ৩৬৩টি কেন্দ্রের ওএমএস ডিলারদের মাধ্যমে মাসে একবার এই চাল নেওয়া যাবে।  সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, টিসিবি কার্ডধারীরা ওএমএস-এর মতো ন্যায্য মূল্যে ১০ কেজি চাল পাবেন।  তাই কার্ডধারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাল দেওয়া হবে ।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রতিদিনের বাজারদর নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে।  সরকারের বিপণন সংস্থাটি জানিয়েছে, গত একসপ্তাহের ব্যবধানে মোটা চালের দাম কেজিতে তিন-চার টাকা বেড়েছে। 

টিসিবির তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বাজারে ৫৫ টাকা কেজির নিচে মোটা চাল নেই।  এছাড়া দাম বেড়েছে মাঝারি মানের ও সরু চালের।  সব মিলিয়ে গত ৫ আগস্ট জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সব ধরনের চালের কেজিতে ১০-১২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। 

এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, কেউ কারসাজি করে চালের দাম বাড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  বাজার নিয়ন্ত্রণে পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ টাকা কেজিতে ৫০ লাখ পরিবারকে চাল দেওয়া হবে।  তার আশা, এতে করে বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে।  পাশাপাশি টিসিবির মাধ্যমে কার্ডধারীদের ৩০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার।  এতে ১ কোটি পরিবার তথা পাঁচ কোটি মানুষ উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।  এছাড়া খোলাবাজারে (ওএমএস) বিক্রির জন্য চালের বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হয়েছে।  এতে চার-পাঁচ কোটি মানুষ উপকৃত হতে পারে।